শ্রীমঙ্গলে পরিবহন শ্রমিকদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ; সাংবাদিকসহ আহত ২০

নিউজ ডেস্ক

নিউজ ডেস্ক

মে ১৯ ২০২৬, ১৪:০৪

ছবি : সংগৃহীত

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে পরিবহন শ্রমিকদের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় তিন সাংবাদিকসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৯ মে) বিকেলে শহরের চৌমুহনী পয়েন্ট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে পুরো শহরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং কয়েক ঘণ্টা যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পূর্বের বিরোধ ও কথাকাটাকাটির জেরে বিকেলে দুই পক্ষের শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে উভয়পক্ষ ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ চলাকালে কয়েকজনকে লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র হাতে দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করলে আশপাশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়।

সংঘর্ষ চলাকালে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হামলার শিকার হন প্রতিদিনের বাংলাদেশ পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি ইসমাইল মাহমুদ, দৈনিক খোলা কাগজের জেলা প্রতিনিধি মো. এহসানুল হক এবং বাংলাদেশ প্রতিক্ষণ পত্রিকার সাংবাদিক আমজাদ হোসেন বাচ্চু। এ ঘটনায় শ্রীমঙ্গলের সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।

সংঘর্ষের কারণে ঢাকা–সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কসহ শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। এতে দূরপাল্লার যাত্রী, সাধারণ মানুষ ও পরিবহনচালকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। প্রায় তিন থেকে চার ঘণ্টা ধরে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং শত শত যানবাহন আটকা পড়ে।

খবর পেয়ে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে উভয়পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান জানান, সংঘর্ষের ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মজিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, উভয়পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। দ্রুত পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা চলছে। সংবাদটির তথ্য ও চিত্র সংগৃহীত।