মৌলভীবাজারে বিদৎসীমার ওপরে ৪ নদীর পানি, বন্যার শঙ্কা

নিউজ ডেস্ক

নিউজ ডেস্ক

জুলাই ০৯ ২০২৬, ০৯:৩৩

অব্যাহত অতি বৃষ্টি এবং ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে মৌলভীবাজার জেলার ৪টি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এদিকে কমলগঞ্জ উপজেলার প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে পাহাড়ি ঢলে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন প্রায় ৮-১০টি গ্রামের মানুষ।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে বাংলানিউজকে এতথ্য জানান কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে পানি কমতে শুরু করেছে।

এদিকে মৌলভীবাজারের মনু, ধলাই, কুশিয়ারা ও জুড়ী নদীসহ মোট ৪টি নদীর পানি গড়ে বিপৎসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী মনু নদীর (রেলওয়ে ব্রিজ পয়েন্ট) পানি বিপৎসীমার প্রায় ২৩ সেন্টিমিটার ওপরে, মনু নদী (চাঁদনীঘাট পয়েন্ট) বিপৎসীমার প্রায় ৬০ সেন্টিমিটার ওপরে, ধলাই নদী বিপৎসীমার ৩২ সেন্টিমিটার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে।

এছাড়াও কুশিয়ারা নদীর পানি (শেরপুর পয়েন্ট) বিপৎসীমার ৩০ সেন্টিমিটার ওপরে এবং জুড়ী নদী বিপৎসীমার ৩২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, টানা বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে বন্যা হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

সূত্র জানায়, টানা বর্ষণ ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধে বড় ধরনের ভাঙন দেখা দিয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) রাত প্রায় ১০টার দিকে ইসলামপুর ইউনিয়নের মখাবিল এলাকার পুরাতন মসজিদের সামনে বাঁধের একটি অংশ ভেঙে গেলে উপজেলার ইসলামপুর ও আদমপুর ইউনিয়নের অন্তত ৭ থেকে ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়। এতে কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাঁধ ভেঙে নদীর পানি দ্রুত লোকালয়ে প্রবেশ করায় মখাবিল, শ্রীপুর, ভান্ডারীগাঁও, কোনাগাঁও, মধ্যভাগসহ আশপাশের একাধিক গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। ডুবে গেছে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এবং অনেক বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। ফলে স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হয়েছে এবং দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

এদিকে ধলাই নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় নতুন নতুন এলাকাও প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বন্যার কারণে ভান্ডারীগাঁও উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে হাঁটুসমান পানি জমে যাওয়ায় বৃহস্পতিবারের প্রথম সাময়িক পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খুরশেদ আলী।

স্থানীয় বাসিন্দা কবির মিয়া ও শাব্বীর এলাহী জানান, বুধবার রাতে হঠাৎ করেই প্রায় ১০০ মিটার এলাকাজুড়ে বাঁধ ভেঙে যায়। এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই আশপাশের কয়েকটি গ্রাম পানিতে ডুবে যায় এবং অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধান করতে বাধ্য হয়।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খালেদ বিন অলীদ জানান, মখাবিল এলাকায় বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে কাজের পরিকল্পনা থাকলেও সীমান্ত সংক্রান্ত জটিলতা ও প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে পুরোপুরি কাজ করা সম্ভব হয়নি। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা চলছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় নদীতে পানি বাড়ছে। নদীর বাঁকগুলোতে কোন সমস্যা দেখা দিলে আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেব। এজন্য আমাদের প্রয়োজনীয় সংখ্যক লোকজন এবং প্রস্তুতি আছে।

বন্যায় কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে রয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং বন্যার্তদের পাশে থাকা হবে। ধলাই নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এদিকে অতি বৃষ্টির কারণে নিম্ন আয়ের মানুষ পড়েছেন বিপাকে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় তারা কাজে যেতে পারেননি। দিনমজুর থেকে রিকশা ও ভ্যান চালকরা অসহায় হয়ে পড়েছেন। এভাবে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে তাদের না খেয়ে থাকতে হবে বলে জানান নির্বাহী প্রকৌশলী।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, গতকাল বুধবার রাতে হঠাৎ করে ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে প্রথম দিকে ৩টি গ্রাম প্লাবিত হয়। পরে তা ৮/১০ গ্রামে প্রবাহিত হয়। তবে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরের পর থেকে পানি কমতে শুরু করেছে। যদি ভারতের অংশে বৃষ্টিপাত আর না হয় তবে আশা করছি পানি দ্রুত করে যাবে।

যে সকল মানুষ পানিবন্দি হয়েছেন উপজেলা প্রসাশনের পক্ষ থেকে তাদের সবাইকে নিরাপদ ভবনে স্থানান্তর করে তাদের মাঝে শুকনো খাবার সরবরাহ এবং বেশি ক্ষতিগ্রস্ত যারা তাদের আর্থিক সহযোগিতা করা হবে। এছাড়াও তাদের গবাদিপশু যেমন-গরু, ছাগল প্রভৃতিও সরিয়ে নেবার জন্য আমাদের টিম সার্বক্ষণিক মাঠে কাজ করছে বলে জানান কমলগঞ্জ ইউএনও।